জাতীয়স্তরে সঙ্গীতে ‘সংস্কৃতির সৈনিক অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন সুন্দরবনের সঙ্গীত শিল্পী

জাতীয়স্তরে সঙ্গীতে ‘সংস্কৃতির সৈনিক অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন সুন্দরবনের সঙ্গীত শিল্পী
  
সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং - জাতীয়স্তরে সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য  ‘সংস্কৃতির সৈনিক অ্যাওয়ার্ড- ২০২৫’ পেলেন সুন্দরবনের ক্যানিংয়ের সঙ্গীত শিল্পী প্রদীপ বোস। ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার মহাজাতি সদনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের তরফে।অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন অভিনেত্রী মিতা চ্যাটার্জী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার চন্দন সেন,আবৃত্তিকার প্রবীর ব্রহ্মচারী, সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ এর কর্ণধার ডঃ শান্তনু সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা। 
জাতীয়স্তরে পুরষ্কার পাওয়া প্রসঙ্গে প্রদীপ বোস জানিয়েছেন,‘পারিবারীক সুত্রে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ। তাছাড় বাংলা গানের জন্য মান্না এবং হিন্দি গানের জন্য কিশোর কুমারকেই খুবই  পছন্দ। এছাড়াও লতা মঙ্গেশকর,রাহুলদেব বর্মন,হেমন্ত মুখোপাধ্যায়,কে এল সায়গল,এস পি বালসুব্রহ্মণ্যম ( শ্রীপতি পন্ডিতআরাধ্য বালসুব্রহ্মণ্যম) আমার প্রিয় শিল্পী। তাঁদের ঐশ্বরিক কন্ঠকে অনুসরণ করার চেষ্টা করে চলেছি। ‘সংস্কৃতির সৈনিক অ্যাওয়ার্ড- ২০২৫’ পুরষ্কার পাওয়ার জন্য সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের কাছে আমি কৃতঞ্জ।আমি খুশি এবং আপ্লূুত। এই অ্যাওয়ার্ড ক্যানিং তথা সমগ্র সুন্দরবন এলাকার সঙ্গীত প্রেমীদের জন্য উৎসর্গ করলাম। যা আগামী দিনে আমার চলার পথে পাথেয়।’
উল্লেখ্য ক্যানিংয়ের গার্লস স্কুলপাড়ার দম্পতি বিমল কুমার বোস ও মলিনা দেবী। দম্পতির চার মেয়ে ও দুই ছেলে।বোস পরিবারের ছোট ছেলে প্রদীপ ওরফে বিল্টু। বোস পরিবারের সকলেই সঙ্গীতের সাথে জড়িত। পারিবারীক ধারাবাহিকতায় শিক্ষাগুরু অরুণ মুখার্জীর হাত ধরে মাত্র ৬ বছর বয়সে তবলায় হাতে খড়ি হয় প্রদীপ বোসের। পরবর্তী সময় পন্ডিত শ্যামল বোস,পন্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ ও পন্ডিত মল্লার ঘোষের সান্নিধ্যে তালিম নেন। তবলার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে থাকেন। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় ক্যানিংয়ের সেন্ট গ্যাব্রিয়াল স্কুল থেকে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ক্যানিংয়ের ডেভিড সেশুন উচ্চমাধ্যমিক হাইস্কুল থেকে। এরপর ১৯৯৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স সহ স্নাতক হন কলকাতার সেন্ট পলস থেকে। ১৯৯৬ সালে ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সরদার কলেজ থেকে ইতিহাসের উপর স্পেশাল স্নাতক হন। তবলার পাশাপাশি পড়াশোনা সমান ভাবেই চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ হয়ে পড়েন। রবীন্দ্র সঙ্গীত শিক্ষার জন্য ডঃ শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি আধুনিক গানের প্রেমে পড়ে যান প্রদীপ। অজয় দাস ও সুপ্রকাশ চাকীর কাছে আধুনিক গানের হাতেখড়ি। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।২০০৭ সালে সঙ্গীত সাধনার মধ্যদিয়ে ভয়েজ মাষ্টার্স রেকর্ডের ‘বনের পথে যেতে’ ও ‘তা তা থই থই’ দুটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। অ্যামবাম দুটিতে ১৬ টি গান রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রেমীদের হৃদয় নাড়িয়ে দেয়।সঙ্গীত প্রেমীদের জন্য ২০০৮ এ গান লেখা শুরু করেন প্রদীপ। নিজের লেখা গান নিজেই সুর দিয়ে পঞ্চাশের অধিক আধুনিক গান গেয়েছেন।তাঁর কালজয়ী গানের তালিকায় রয়েছে ‘‘আমার পিঠের ব্যাগ,আমার চেয়ে ভারি’। যা সাধারণ সঙ্গীতপ্রেমী মানুষের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে। নিজের সঙ্গীত সাধনার পাশাপাশি ২০১০ সালে ক্যানিংয়েই গড়ে তুলেছেন সঙ্গীত স্কুল।যেখানে প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী সঙ্গীতের তালিম নিচ্ছেন।