ভোটারদের হাতে আরও ক্ষমতা? রাঘব চাড্ডার ‘রাইট টু রিকল’ প্রস্তাব ঘিরে জোর আলোচনা

ভোটারদের হাতে আরও ক্ষমতা? রাঘব চাড্ডার ‘রাইট টু রিকল’ প্রস্তাব ঘিরে জোর আলোচনা

সুমন সরদার: আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা সম্প্রতি সংসদে ‘রাইট টু রিকল’ বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে মেয়াদ শেষের আগেই প্রত্যাহারের অধিকার চালুর দাবি তুলে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “যদি ভোটাররা কাউকে নির্বাচিত করার অধিকার রাখেন, তবে প্রয়োজনে তাঁকে অপসারণের অধিকারও থাকা উচিত।”
তাঁর মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় একজন সাংসদ বা বিধায়ক পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর মাঝপথে তাঁর কাজের মূল্যায়নের কার্যকর কোনও সাংবিধানিক উপায় নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলেও প্রতিনিধি পদে বহাল থাকেন। এই পরিস্থিতি বদলাতেই ‘রাইট টু রিকল’ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তবে কী এই রাইট টু রিকল ? ‘রাইট টু রিকল’ এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রত্যাহার প্রস্তাব আনা যায়। সাধারণত একটি স্বাক্ষর সংগ্রহ প্রক্রিয়া হয়; নির্দিষ্ট শতাংশ ভোটার সমর্থন জানালে পুনরায় ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রতিনিধি পদে থাকবেন কি না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে—যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার নির্দিষ্ট অংশে—রিকল পদ্ধতির বিভিন্ন রূপ কার্যকর রয়েছে। ভারতে পঞ্চায়েত স্তরে কিছু রাজ্যে সীমিত আকারে এই ব্যবস্থা দেখা গেলেও সংসদ বা বিধানসভা স্তরে তা চালু নেই। এখন প্রশ্ন কেন এই পদ্ধতির প্রয়োজন ? তার মতে, রিকল ব্যবস্থা চালু হলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা বাড়বে। দুর্নীতি, নিষ্ক্রিয়তা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ক্ষেত্রে ভোটাররা সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কর্মক্ষমতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব বাড়তে পারে।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। বিরোধী শক্তি বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী বারবার রিকল প্রক্রিয়া শুরু করে প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অপব্যবহার রোধে কঠোর শর্ত ও স্পষ্ট আইনি কাঠামো জরুরি। ভারতে ‘রাইট টু রিকল’ চালু হলে গণতন্ত্রে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিনিধিদের ওপর নিয়মিত জনচাপ তৈরি হবে, যা তাঁদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সুপরিকল্পিত বিধি ও সাংবিধানিক সংশোধন অপরিহার্য।
রাঘব চাড্ডার প্রস্তাব এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা ভবিষ্যতের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলেও, গণতন্ত্রে ভোটারদের ক্ষমতা প্রসারের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এই উদ্যোগ।