প্রশাসনই করবে ভোটের দফা নির্ধারণ

প্রশাসনই করবে ভোটের দফা নির্ধারণ

প্রিয়ম ওহ: পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভোট ঘোষণার। ইতিমধ্যেই কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ঘুরে গিয়েছে। মিটিং হয়েছে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে। আইন শৃঙ্খলা নিয়ে ধমক খেতে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আধিকারিকদের।
সাংবাদিক সম্মেলন করে জ্ঞানেশ কুমার জানান, ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গের ভোটের পরিকল্পনা। বয়স্ক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য যেমন ব্যবস্থা ছিল তেমনই থাকবে। এমনকি বেশি বয়স্কদের জন্য বাড়িতে ভোটের ব্যবস্থা করা হবে। প্রার্থীদের রঙিন ছবি এবং বড় অক্ষরের নাম লেখা থাকবে ইভিএম ব্যালটে। বাইরে মোবাইল রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এছাড়াও ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। প্রত্যেক ২ ঘণ্টা অন্তর কত শতাংশ ভোট পড়লো তা তুলে ধরা হবে ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটে। সকল ভোট দাতাদের ওয়েবসাইট এবং অ্যাপসের মাধ্যমে দেখার কথা জানিয়েছেন তিনি। নতুন ভোটারদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে ইআরওদের নিযুক্ত করা হচ্ছে বিভিন্ন কলেজে সচেতনতা বাড়াতে।এতকিছুর পরেও সকলের মনে প্রশ্ন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কি এবার পশ্চিমবঙ্গবাসী দেখতে পাবে? যদিও সিইসি বলেছেন, কোন পক্ষপাতিত্ব তিনি বরদাস্ত করবেন না। পূর্বতন দুষ্কৃতিদের চিহ্নিত করা শুরু হয়ে গিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত যে কোনও আধিকারিক যদি পক্ষপাতিত্ব করেন এবং ঠিকঠাক কাজ না করেন তাহলে কাউকেই রেয়াৎ করা হবে না।
তবে এখন সবচাইতে বড় প্রশ্ন, ভোট কবে থেকে এবং কত দফায় হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে পশ্চিমবঙ্গে ভোট করতে হয়েছে বেশ কয়েক দফায়। এ বছরও কি সেই পথেই হাঁটবে নির্বাচন কমিশন। এই প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, সন্ত্রাসের পরিমাপ দেখেই নির্ধারণ করা হবে ভোটের দফা। অর্থাৎ পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে এরাজ্যের প্রশাসনের। তারা যদি সন্ত্রাস দমন থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা উন্নতি করতে পারে তাহলে ভোটের দফা কমবে। এখন দেখার তারা কি সত্যি এই পরীক্ষায় পাস করতে পারবে?
এসআইআর-এ ভোটার পর্যালোচনার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে তবে কি ∎ ভোট ঘোষণা হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। যদিও ইতি উতি কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মার্চেই হতে পারে ভোট ঘোষণা। তবে তা শান্তিপূর্ণ ভাবে কত দফায় হবে তা নির্ভর করছে এরাজ্যের প্রশাসনের উপরেই ।