বিকশিত ভারত প্রবন্ধ লিখে লালকেল্লায় পৌঁছালো বাসন্তী সেলিমা

বিকশিত ভারত প্রবন্ধ লিখে লালকেল্লায় পৌঁছালো বাসন্তী সেলিমা
সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং : অর্থের অভাব কাটিয়ে দিল্লি গেলেন বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ ঋতুভকত উচ্চমাধ্যমিক হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর দুঃস্থ-ছাত্রী সেলিমা মোল্লা। দিল্লিতে যাওয়ার জন্য তাকে সমস্ত ভাবে সাহায্য করলেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস।দিল্লিতে যাওয়া আসার জন্য ফ্লাইট এর টিকিট এবং সেখানে থাকার জন্য পাঁচতারা হোটেলের বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। এমনকি ১০ হাজার নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন তিনি। আর শেষ মুহূর্তে দিল্লিতে পৌঁছাতে পেরে আবেগে আপ্লুত দরিদ্র পরিবার। উল্লেখ্য ‘বিকশিত ভারত প্রবন্ধ’ লিখে দিল্লির লালকেল্লায় ১৫ই আগস্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পায় বাসন্তীর ফুল মালঞ্চ গ্রামের ঋতুভকত হাই স্কুলের সেলিমা মোল্লা।সেলিমার বাড়ি স্থানীয় ১১ নম্বর আমঝাড়া গ্রামে।সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা হলেও আর্থিক অনটনের জন্য পরিবারটির সমস্যা দেখা দেয়। যাওয়া-আসা এবং দিল্লিতে থাকার খরচ নিয়ে।এমন সময় ত্রাতার ভূমিকায় পাশে এসে দাঁড়ায় ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস। তাঁরই সহযোগিতায় শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ শুক্রবার সকালেই দিল্লি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিধায়ক নিজের গাড়িতে করেই বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। এ বিষয়ে বিধায়ক পরেশ রাম দাস বলেন, ‘আমাদের সুন্দরবনের ছাত্রী দিল্লিতে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে থাকার আমন্ত্রণ পেয়েও যেতে পারছে না আর্থিক অবস্থার কারণে। এমনটা জানতে পেরেছিলাম। তারপর সমস্ত ব্যবস্থা করলাম এবং প্রশাসনের সাহায্য নিয়েই সেখানে পৌঁছানোর পর যে অনুমতি পত্র লাগে তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমার বিধায়কের বেতন থেকে দিয়ে এই পরিবারটিকে সাহায্য করেছি।’
নবম শ্রেণীর এই ছাত্রী দিল্লি থেকে টেলিফোনে বলেন, বাবা দিনমজুরের কাজ করে কখনো দিল্লি যায়নি, কিন্তু আমি ৫০০ শব্দের প্রবন্ধ লিখে দিল্লির লালকেল্লা যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ভারতের স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য। কিন্তু আর্থিকভাবে কোন উপায় করে উঠতে পারিনি। অবশেষে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পাশে এসে দাঁড়ানোই আমরা দিল্লি পৌঁছাতে পারলাম।’