সুন্দরবনে বাঘ দেখাবে আকাশ থেকে! গোসাবায় বোটে বসে বড় পরিকল্পনা ফাঁস করলেন মিঠুন-বিকর্ণ

সুন্দরবনে বাঘ দেখাবে আকাশ থেকে! গোসাবায় বোটে বসে বড় পরিকল্পনা ফাঁস করলেন মিঠুন-বিকর্ণ
সুভাষ চন্দ্র দাশ, গোসাবা : সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে নৌকায় বসে চলছে ভবিষ্যতের সুন্দরবন নিয়ে বড় আলোচনা। একদিকে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী, অন্যদিকে গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর। হাতে গরম চায়ের কাপ নয়, হাতে সুন্দরবনের পর্যটন মানচিত্র।
কেন সুন্দরবনে চিড়িয়াখানা হবে না?
মিঠুন বলেন, "অনেক জায়গায় জু অর্থাৎ চিড়িয়াখানা থাকে। কিন্তু আমাদের এটা সুন্দরবন, এতো সুন্দর একটা জায়গা। এখানে পর্যটকদের দেখার মতন চিড়িয়াখানা নেই। কারণ এখানে সব থেকে বড় আকর্ষণ হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তার দর্শন হয়ে গেলেই তো সব দর্শন হয়ে গেল।"
তিনি জানান, সুন্দরবনে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা করলে তার গুরুত্ব নষ্ট হবে। বাঘকে তার নিজের জঙ্গলেই দেখতে হবে।
হেলিপ্যাড আছে, কিন্তু হেলিকপ্টার ওড়ে না কেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন বলেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি বলেন, "গোসাবায় কিন্তু একটা হেলিপ্যাড আছে। বিভিন্ন জায়গায় গেলে আকাশ পথে ঘোরার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এখানে আকাশ পথে দেখার জন্য হেলিকপ্টারকে অনুমতি দেওয়া হয় না। কারণ হেলিকপ্টারের আওয়াজে বাঘের ব্যাঘাত ঘটে। সেই জন্যই এটা বন্ধ করা আছে।"
অর্থাৎ বাঘের সুরক্ষার জন্যই সরকার হেলিকপ্টার পর্যটন বন্ধ রেখেছে।
তাহলে উপায়? আকাশ পথে বাঘ দর্শন!
এরপরেই বিকর্ণ নস্কর ও মিঠুন চক্রবর্তী দুজনে মিলে জানান তাদের নতুন ভাবনা।
মিঠুন বলেন, "আমরা ভেবেছি আকাশ পথে বাঘ দর্শন। এখানকার মাটি কিরকম সেটা দেখে শুনে হয়তো লোক টানার ব্যবস্থা ভাবা হচ্ছে। যদি মাটি ধরতে পারেন, এইরকম ভাবে নিয়ে আকাশ পথে বাঘ দর্শন করে চলে আসবে।"
অর্থাৎ নীরবে উড়তে পারে এমন ছোট এয়ারক্রাফট বা ড্রোন-বেসড সিস্টেম বা কম শব্দের হেলিকপ্টার দিয়ে বাঘ দেখানোর পরিকল্পনা চলছে, যাতে বাঘের কোনো ক্ষতি না হয়।
পর্যটন শিল্পের জন্য যোগাযোগ সব থেকে বড় — গদখালি পর্যন্ত রেল!
বিকর্ণ নস্কর বলেন, "পর্যটন শিল্প তৈরি করতে গেলে তার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বকখালি পর্যন্ত রেলের আশা যদি কোনো ব্যবস্থা হয়..."
মিঠুন তখন যোগ করেন, গদখালি হচ্ছে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। গদখালি পর্যন্ত রেলের স্যাংশনও আছে। সেটা যদি হয়, তাহলে পর্যটকরা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে সেখান থেকে জলপথে সুন্দরবন ট্যুর করবে। তাহলে পর্যটন শিল্পে বিপ্লব আসবে।
বার্জেন আইল্যান্ড থেকে টাইগার সাফারি!
মিঠুন তার ভিশন শেয়ার করে বলেন, "যেমন বার্জেন আইল্যান্ড, যেখানে গেলে হাত সাফাই পাবেন না কিন্তু ওখানে যাবার পর যে আনন্দ পাবেন, সে আনন্দ অন্য জায়গায় পাবেন না। কেউ আপনাকে বিরক্ত করার নেই। দুই রাত ওখানে থাকলেন, প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় টাইগার সাফারি করলেন, ডলফিন সাফারি করলেন। তারপর হাট বসাবো সেখানে, রিলিজিয়াস ট্যুর করে ফিরে গেলেন — ৩ দিনের একটা প্যাকেজ।"
অর্থাৎ সুন্দরবনে থাকা-খাওয়া, জঙ্গল সাফারি, ডলফিন দেখা এবং ধর্মীয় স্থান ভ্রমণ নিয়ে একটা ৩ দিনের কমপ্লিট ট্যুর প্ল্যান ভাবা হচ্ছে।
এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, বিজেপি সুন্দরবনকে শুধু ভোটের ময়দান হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে চাইছে। মিঠুনের অভিজ্ঞতা ও বিকর্ণের স্থানীয় আবেগ — এই দুই মিলে গোসাবার জন্য এক নতুন ভবিষ্যৎ তৈরি হতে পারে।
এখন দেখার, এই পরিকল্পনা কবে বাস্তবায়িত হয়।