সুন্দরবনে ৫-স্টার ট্রি-হাউস, আকাশ থেকে বাঘ দর্শন! লঞ্চে বসে সুন্দরবনের জন্য ৭ দফা মাস্টার প্ল্যান ফাঁস করলেন মিঠুন-বিকর্ণ

সুভাষ চন্দ্র দাশ, গোসাবা: রণথম্বোর নয়, গির নয় — এবার বিশ্বের দরবারে সুন্দরবনকে তুলে ধরার বড় পরিকল্পনা। গোসাবার বুকে লঞ্চে বসে সেই পরিকল্পনাই ফাঁস করলেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী ও গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর। 
মিঠুন বলেন, "সুন্দরবনে এমন ৮-১০টা ভার্জিন আইল্যান্ড আছে যেখানে কোনো বসতি নেই। সেখানে আমরা কোনো কংক্রিটের বিল্ডিং বানাবো না। সেখানে ফাইভ-স্টার রিসর্ট করার জন্য ট্রি-হাউস, ইকো-ফ্রেন্ডলি হাউস বানানোর পারমিশন দেব। চাইলে আমরা বিক্রিও করে দিতে পারি অথবা ৯৯ বছরের লিজে দিতে পারি। ফাইভ-স্টারের নিচে হলে অনুমোদন করবো না। যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা স্বচ্ছন্দে এসে থাকতে পারে।"
মিঠুন বলেন, "যারা এই ফাইভ-স্টার রিসর্ট করবে, তাদের একটা ডিমান্ড থাকবে আমার — ৮০% লোক এখানকার নিতে হবে, ২০% বাইরের। ৭০-৮০ জন লোকাল ছেলেকে কাজ দিতে হবে। এটা আমার ডিমান্ড।" অর্থাৎ সুন্দরবনের বেকার যুবকদের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থান।
আকাশ থেকে বাঘ দর্শন ও হেলিপ্যাড রহস্য-
গোসাবায় হেলিপ্যাড আছে কিন্তু হেলিকপ্টার ওড়ে না কেন? মিঠুন বলেন, "এখানে হেলিকপ্টারের আওয়াজে বাঘের হবে, তাই সরকার অনুমোদন করে না।" তাই তার বিকল্প ভাবনা — কম শব্দের এয়ারক্রাফট দিয়ে "আকাশ পথে বাঘ দর্শন"। যাতে বাঘের কোনো ক্ষতি না হয়, আবার পর্যটকরাও বাঘ দেখতে পায়।
রিলিজিয়াস ট্যুরিজম ও গ্রামের হাট:-
মিঠুন বলেন, "এখানে মা মনসা, বনবিবির যে মন্দিরগুলো আছে, সেগুলোকে Renovate করে রিলিজিয়াস ট্যুরিজমের মধ্যে আনা হবে। আর একটা জায়গায় করবো গ্রামের হাট। সন্ধ্যেবেলা পর্যটকরা ওখানে যাবে, খাওয়া-দাওয়া করবে, আমাদের লোকসংগীত উপভোগ করবে। গ্রামের লোকরা মধু, ক্ষুদ্র শিল্প — যা আছে সেই হাটে বিক্রি করবে।"
ডলফিন দর্শন ও মিউজিয়াম:-
তিনি জানান, দুটো ব্র্যান্ড নিউ জেটি রেডি করা হচ্ছে ডলফিন দর্শনের জন্য। পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ পরিচয় কেন্দ্র, সুন্দরবনের গাছ, পশুপাখি, মাছ নিয়ে মিউজিয়াম করা হবে, যাতে বাচ্চারাও শিখতে পারে।
মৎস্যজীবী ও বাঘ-বিধবাদের জন্য বড় ঘোষণা-
মৎস্যজীবীদের প্রশ্নে মিঠুন বলেন, "১০০-৩০০ জনকে এখনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ইমিডিয়েটলি গিয়েই কথা বলবো যাতে লাইসেন্স পায়।"
আর বাঘ-বিধবা মায়েদের জন্য বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের অর্ডার আছে, বাঘে খেলেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যারা পায়নি, তাদের লিস্ট জোগাড় করেছি। অলরেডি ৩৭ জনের লিস্ট হয়েছে। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে কোর্টের অর্ডারের কপি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেবো।"
যোগাযোগ ও শুটিংয়ে ৩০% ভর্তুকি-
বিকর্ণ নস্কর বলেন, পর্যটন শিল্পের জন্য যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গদখালি পর্যন্ত রেলের স্যাংশন আছে, সেটা হলে পর্যটনে বিপ্লব আসবে।
মিঠুন যোগ করেন, "আমরা শুটিংয়ে ৩০% সাবসিডি করে দিয়েছি। ভারতবর্ষের যেখান থেকেই হোক, এমনকি বিদেশ থেকেও কেউ যদি পশ্চিমবঙ্গে শুটিং করে, ৩০% ডিসকাউন্ট পাবে। তাহলে সুন্দরবনে এসেও শুটিং করবে, লোকাল লোকেদের লাভ হবে।"
শেষে রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে-
১৯৩২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোসাবায় এসেছিলেন, সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে মিঠুন বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "ওনার সাথে আমাকে তুলনা করবেন না। উনি জগৎগুরু। তবে ওনার আশীর্বাদ যদি একটু পাই, তাহলে আমি অনেক বড় হয়ে যাবো।"
উল্লেখ্য মিলিয়ে মিঠুন ও বিকর্ণের এই লঞ্চ-বৈঠক থেকে পরিষ্কার — বিজেপি সুন্দরবনকে শুধু ভোটের মাঠ নয়, বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে তুলতে চায়। PPP মডেলে বড় কোম্পানিকে ৯৯ বছরের লিজ, কিন্তু শর্ত একটাই — পরিবেশের কোনো ক্ষতি করা যাবে না, একটুও বন আইন ভাঙা যাবে না।মুখমন্ত্রী সবুজ সিগন্যাল দিলেই কাজ শুরু হবে বলে জানান মিঠুন। এখন দেখার, এই স্বপ্ন কবে বাস্তব হয়। (আগের কপি থিতে হবে না। এটাই ফাইনাল কপি। ছবি একই থাকবে)