১০০ দিনের রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে হাওড়ায় সাংবাদিক বৈঠক বিজেপির

১০০ দিনের রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে হাওড়ায় সাংবাদিক বৈঠক বিজেপির

সুমন আদক, হাওড়া: রাজ্যে পালাবদলের পর বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়া সদর বিজেপির তরফ থেকে জেলা সদর কার্য্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সাংবাদিক বৈঠকে বিগত ১০০ দিনের বাংলার সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন বিধায়ক তথা তথ্য ও সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং যুব পরিষেবা সংক্রান্ত বিশেষ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রুদ্রনীল ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলা সদর বিজেপির সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাফল্যের ১০০ দিন আমরা অতিক্রম করলাম।গত ৪ঠা মে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই উন্নয়নের এই কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়েই। ক্ষমতায় আসার প্রথম ১০০ দিনে রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান হলো, অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের দেওয়া হচ্ছে মাসিক ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা, রাজ্যজুড়ে চালু হয়েছে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, নারী নিরাপত্তায় গঠিত হয়েছে 'দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড'। মাতৃবন্দনা যোজনায় গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের দেওয়া হচ্ছে ২১,০০০ টাকা। ১লা অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মচারীদের DA বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০%। আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সাম্মানিক বেড়েছে মাসিক ৫০০০ টাকা। মিড-ডে-মিলের রাঁধুনি ও কর্মীদের সাম্মানিক বাড়ানো হয়েছে ১০০০ টাকা। রাজ্যজুড়ে আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় উপভোক্তারা পাচ্ছেন ২৫ লক্ষ পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা।হাসপাতালে দালালচক্র ভাঙতে স্বাস্থ্যভবনে চালু হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। নিউ টাউনে গড়ে উঠবে ২২,০০০ কোটির ২,০০০ শয্যা বিশিষ্ট মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। এর পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীর দৈনিক
খাবারের বরাদ্দ মাথাপিছু ৫৬.৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করেছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি রাজ্যে বিনিয়োগ করছে শ্যাম স্টিল, আমুল, লাক্স কোজি, ITC, JSW Infra, L&T AI Data Centre-সহ একাধিক সংস্থা। শুধুমাত্র ব্যারাকপুর শিল্পতালুকেই খোলা হচ্ছে প্রায় ২০টি বন্ধ জুটমিল। জলপাইগুড়িতে গড়ে উঠবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। তথ্য প্রযুক্তি, ফার্মা ও লজিস্টিকস-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।কলকাতায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে চালু হয়েছে নাইট বাস সার্ভিস। জট কেটেছে কলকাতায় থমকে থাকা বিভিন্ন মেট্রো প্রকল্পের। দুর্গাপুর-আসানসোল এবং শিলিগুড়িতেও ঘোষণা হয়েছে নতুন মেট্রো প্রকল্পের। এছাড়া জেলায় জেলায় বাড়ানো হয়েছে বাস তথা রুটের সংখ্যা। উন্নয়নের পথে পা বাড়িয়েছে উত্তরবঙ্গও। হাসিমারা বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা, জমি বরাদ্দ হয়েছে হিলি-কোচবিহার রেল প্রকল্প সম্প্রসারণে। ইতিমধ্যেই একাধিক চা-বাগান পুনরায় খোলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে গড়ে উঠবে AIIMS, IIT-র মতো প্রতিষ্ঠানও। এর পাশাপাশি সরকার পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়েছে বালি, পাথর পাচার, কমেছে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ঝুঁকি। তৃণমূল আমলের ৭৭টি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিতর্কিত ওবিসি অন্তর্ভুক্তি বাতিল করে ওবিসি সংরক্ষণ ১৭% থেকে আইনসম্মত ৭%-এ ফিরিয়ে এনে, যথাযথ যাচাইয়ের ভিত্তিতে ৬৬টি প্রকৃত অনগ্রসর সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দিয়েছে বিজেপি সরকার। SSC-র মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন রামকৃষ্ণ আশ্রমের তিন মহারাজ, IIM-কলকাতার একজন অধ্যাপক। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমূল পরিবর্তন এসেছে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাতেও। পঞ্চায়েত স্তরে এবার আর্থিক ক্ষমতা তথা চেক সই করার অধিকার থাকবে সংশ্লিষ্ট সচিব তথা আধিকারিকদের হাতে। এছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে VB-G RAM G প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজ দিচ্ছে বিজেপি সরকার। এরিন হাওড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর হাওড়া জেলার ক্ষেত্রেও উন্নয়ন হয়েছে। হাওড়ার উন্নয়নে ৪,৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা হয়েছে। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, নিকাশি, আলো, নতুন বাস রুট থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারি যে সমস্ত প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। হাওড়ায় জল জমার যে সমস্যা রয়েছে তা কিছুটা মেটানো গেছে। ডিসেলন্টিং এর কাজ হচ্ছে। বর্ষায় জল নামলে রাস্তার কাজ শুরু হবে। বেআইনি দখলদারমুক্ত করে শহরের গতি বাড়ানো হবে। এছাড়া টোটো নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে সেটা নিয়েও খুব শীঘ্রই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। পুরসভাকে সচল রাখতে দক্ষ অফিসারদের সামনের সারিতে রাখা হচ্ছে। পুরসভার পরিষেবা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। জমা জল নামাতে পুরসভার হাতে বর্তমানে যতগুলি পাম্প রয়েছে আগামী দিনে আরও বেশি পাম্প আনার কথা ভাবা হচ্ছে।