কথা দিয়েও কেউ কথা রাখেনি! সেতু তৈরি করলেন গ্রামবাসীরা

কথা দিয়েও কেউ কথা রাখেনি! সেতু তৈরি করলেন গ্রামবাসীরা
মলয় সুর, হুগলী: ভোট আসে, ভোট যায়। প্রতিবার নিয়ম করে নেতারা আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কোনওদিনই পূরণ হয় না। তাই সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে বানিয়ে ফেললেন বাঁশের সেতু। তার উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষজন। সেতুটি দামোদর নদীর উপর রয়েছে। সেতুর ওপারে হাওড়া জেলা ডিহিভুরসুট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। এপারে হুগলীর উদয়নারায়ণপুরের জাঁদা গ্রাম। এখানকার বাসিন্দারা দামোদর নদীর উপর পাকা সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ১ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করলেও বর্ষার সময় সেই সেতু ভেঙে যায়। ফলে দুই দিকের বাসিন্দারাই সমস্যায় পড়েন। বাজার হাট করা, ছেলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া আসা করতে ভীষণ সমস্যা হয়। এখানে গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, এখানকার বাসিন্দাদের ঘুরে হাসপাতালে যেতে হয়। যাঁরা চাষবাস করেন তাঁদেরও মাঠে যেতে সমস্যা হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, সেতু নির্মাণের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সবার কাছেই দরবার করেছেন তাঁরা। ভোটের আগে শাসক ও বিরোধী সব দলের নেতারাই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কিন্তু  নেতাদের মুখ থেকে একটা কথাই শুনতে পাওয়া যায়।  কয়েক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কিন্তু সেতু নির্মাণের কাজ আজও শুরু হয়নি। তাই সম্প্রতি গ্রামবাসীরাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেরাই বাঁশ ও কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন। এই ধরণের বাঁশ ও কাঠের সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে গেলে টাকা দিতে হয়। বিশেষ করে সেখানে গ্রামে যদি কোনও মেলা বসে। তবে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেক দেরি হয়। আগে আমরা যখন ক্ষমতায় ছিল, সিপিএমের কোনও নেতা এখানে ভোটের প্রচারে এলে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিতেন। তৃণমূলের জামানাতেও তার কোনও বদল হয়নি। সবাই শুধু কথা দিয়ে যায়, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। স্থানীয় বিজেপির নেতা সুশান্ত ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শুধু খেলা, মেলা, উৎসব নিয়েই মেতে রয়েছে, কিন্তু সেতু তৈরির টাকা নেই।