কাশী থেকে শিবলিঙ্গ আনা হয়েছিল কেশবেশ্বর মন্দিরে
কুনাল মালিক: আসন্ন শিবরাত্রি উপলক্ষে এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ডহারবার মহাকুমার মন্দির বাজারের কেশবেশ্বর শিব মন্দিরকে ঘিরে শিব ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর পূর্বে এই কেশবেশ্বর মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন মুড়াগাছা পরগনার জমিদার কেশব রায়চৌধুরী। ১৬৭০ শকাব্দ বা ১৭৪৮ সালে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিব ভক্ত জমিদার কেশব রায়চৌধুরী অপুত্রক ছিলেন। তিনি পুত্র লাভের আশায় শিবের আরাধনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি কাশীর মণিকর্নিকা ঘাট থেকে শিবলিঙ্গ নিয়ে আসেন মন্দিরের স্থাপন করার জন্য।
মন্দির নির্মাণ করেছিলেন জনৈক বাসুদেব নামে এক ব্যক্তি বেশ কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন বোলসিদ্ধিগ্রামের সিদ্ধ পুরুষ বানেশ্বর ন্যায়রত্ন। মন্দিরটি অপূর্ব সমস্ত টেরাকোটার কাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট। কালের বিবর্তনে এবং বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের কারণে প্রাচীন টেরাকোটার কাজ অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু প্রাচীন এই শিব মন্দির এবং শিব লিঙ্গ আজও সমানভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছে স্থানীয় মানুষদের কাছে। এই শিব মন্দিরকে অতি জাগ্রত বলেই অনেকে মেনে থাকেন। শিবরাত্রির সময় প্রচুর পুরুষ মহিলা এখানে ভিড় জমান, শিবলিঙ্গে জল ঢালার জন্য। প্রাচীন মন্দিরকে ঘিরে এখানে আদূরেই গড়ে উঠেছে বাজার। সেই কারণেই এই স্থানটির নাম মন্দির বাজার হতেও পারে।
আবার অনেকে বলেন মন্দির বাজারে প্রচুর প্রাচীন মন্দির থাকার কারণে এই জায়গার নাম হয়তো মন্দির বাজার হয়েছে। শিবরাত্রি ছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তির সময় নীলের গাজনকে ঘিরেও প্রচুর সন্ন্যাসীদের আগমন হয় এখানে। মন্দির বাজারের বিধায়ক জয়দেব হালদার জানালেন, কেশবেশ্বর শিব মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত এবং
প্রাচীন। শিবরাত্রিতে প্রচুর মানুষের এখানে সমাগম হবে তাই শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিধায়ক উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে মন্দিরকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে তীর্থযাত্রীদের জন্য ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, হাই মাস্ট লাইট লাগানো হয়েছে, সুলভ শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সম্প্রতি এটিএমের মাধ্যমে পানীয় জল পাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্দিরের সামনে অনেকটাই পাথর দিয়ে বাঁধানো হয়েছে। প্রাচীন এবং ঐতিহ্যমন্ডিত মন্দিরবাজারের কেশবেশ্বর মন্দিরে তিনি সকলকে স্বাগত জানিয়েছেন
admin