সুমন আদক, হাওড়া: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হাওড়াতেও জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের তরফেও ভোটদান ভয়ভীতি মুক্ত ও হিংসা মুক্ত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে হাওড়ায় এক সাংবাদিক বৈঠকে জেলাশাসক জানান, নির্বাচন কমিশনের ৬ দফা নির্দেশিকা মেনেই এবার ভোট করানো হচ্ছে। প্রতি পোলিং স্টেশনে সিসিটিভির নজরদারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। প্রত্যেক বুথের ভিতরে ও বাইরে একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হলে বুথের মধ্যে অতিরিক্ত একটি ক্যামেরা লাগানো হবে। তিনি আরও বলেন, বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদর্শ আচরণবিধি বা 'মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট' ( এমসিসি ) লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে হাওড়া জেলাতেও বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের সুপার সুবিমল পাল, সেন্ট্রাল ফোর্স ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর দিব্যাংশু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিন হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া আরও বলেন, এখানে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন করার জন্য বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে এবং জানানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে। হাওড়া সিটি পুলিশ এলাকায় ৪৭ এবং গ্রামীণ এলাকায় ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিযুক্ত রয়েছে। তারা বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন এলাকায় রুটম মার্চ করছে, এলাকার মানুষের কনফিডেন্স বিল্ডিং করছে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো এলাকায় একাধিকবার রুট মার্চ হয়ে গেছে। প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন। বিভিন্ন নাকা পয়েন্টগুলোতে চেক করা হচ্ছে। জেলায় মোট ৪৮টি ফ্লাইং স্কোয়াড টিম কাজ করছে। এই ফ্লাইং স্কোয়াড টিম প্রতিটা বিধানসভা কেন্দ্রে ৩টি করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের কনফিডেন্স বিল্ডিং এর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চলছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩টি করে নাকা পয়েন্ট করা হয়েছে। প্রতিদিনই নাকা চেকিং হচ্ছে। আমাদের তরফ থেকে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার অখিলেশ কুমার চতুর্বেদী বলেন হাওড়ায় ২,০৮৭টি বুথ রয়েছে। আমাদের এলাকাকে ১৫২টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আমাদের ৪৮টি আরটি থাকবে। ৭৫টি কিউআরটি থাকবে। ২২টি নাকা পয়েন্ট তাদের কাজ করবে। ২২টি এসএসটি, ২২টি এফএসটি থাকছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নির্বাচনে কোনও হিংসা হবেনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন হবে না, কোনও প্ররোচনা হবেনা, ছাপ্পা ভোট হবেনা, কোনও বুথ জ্যামিং হবেনা। নির্বাচন কমিশনের এই গাইডলাইন আমাদের লাগু করতে হবে। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ সুপার সুবিমল পাল বলেন, এলাকায় ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিযুক্ত রয়েছে। পেট্রলিং এবং নাকা চেকিং হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নাকা পেট্রোলিং এবং নাকা চেকিং করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত রুরাল এলাকায় কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। যে সমস্ত ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে সেগুলো যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা চালু থাকবে। ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচন করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যা করার তাই করা হবে। নির্বাচনের সময় যাতে কোনওরকম অশান্তির সৃষ্টি না হয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।