নিম্নচাপের ভ্রুকুটির মাঝেই সুন্দরবনে মহা-বোনাস! পিরখালির জঙ্গলে নদী সাঁতরে পার হচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, উল্লাসে ফেটে পড়লেন পর্যটকরা

নিম্নচাপের ভ্রুকুটির মাঝেই সুন্দরবনে মহা-বোনাস! পিরখালির জঙ্গলে নদী সাঁতরে পার হচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, উল্লাসে ফেটে পড়লেন পর্যটকরা
সুভাষ চন্দ্র দাশ, সুন্দরবন :  একদিকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা। অন্যদিকে তার মধ্যেই সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে যা দেখলেন কলকাতার পর্যটকরা, তা সারাজীবন মনে থাকবে। সুন্দরবনের গভীর অরণ্য থেকে বেরিয়ে এসে নদী সাঁতরে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে চলে গেল সুন্দরবনের রাজা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। আর সেই বিরল দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন পর্যটকরা।
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ জনের একটি পর্যটক দল সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। বাসন্তী, গদখালি হয়ে তাদের লঞ্চ ঢুকেছিল সুন্দরবনের পীরখালির জঙ্গল লাগোয়া জলপথে।পীরখালি সুন্দরবনের অন্যতম বাঘের আঁতুড়ঘর হিসেবেই পরিচিত। বহু পর্যটক বাঘ দেখার আশা নিয়ে যান, কিন্তু খালি হাতেই ফিরতে হয়। তবে এদিন ভাগ্য ছিল একেবারে অন্যরকম।
পর্যটকদের লঞ্চটি যখন ধীরে ধীরে পীরখালির গহীন অরণ্য লাগোয়া সরু খাঁড়ি দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর থেকে নড়াচড়া লক্ষ্য করেন গাইড। মুহূর্তের মধ্যে জঙ্গলের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে বিশালাকার এক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটকদের কথায়, বাঘটি প্রথমে কিছুক্ষণ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে চারদিক দেখে। তারপর কোনও কিছুকে তোয়াক্কা না করে সোজা নদীতে ঝাঁপ দেয় এবং সাঁতরে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে চলে যায়। প্রায় ২০০ মিটার নদী সে অনায়াসে সাঁতরে পার হয়ে যায়। তারপর আবার গভীর জঙ্গলে মিলিয়ে যায়।
এই গোটা দৃশ্যটা চলে প্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে। এই ২-৩ মিনিটেই বাকরুদ্ধ হয়ে যান লঞ্চে থাকা ৩০ জন পর্যটক। প্রথমে ভয়ে চিৎকার, তারপরই উল্লাস। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছেন, কেউ ছবি তুলছেন।
এক পর্যটক জানান, "আমরা কলকাতা থেকে বহু আশা নিয়ে এসেছিলাম যদি একবার বাঘের দেখা মেলে। নিম্নচাপের জন্য একটু ভয়ও ছিল। কিন্তু ভাবতেই পারিনি এভাবে চোখের সামনে বাঘ নদী সাঁতরে পার হবে। এটা স্বপ্নের মতো। টাকা উসুল হয়ে গেল।"