ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ভষ্মীভূত চায়ের দোকান,কিভাবে চিকিৎসা করাবেন চিন্তায় ভেবে মরণাপন্ন দোকান মালিক!সাহায্যের আবেদন
সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং - বৃহষ্পতিবার ভোর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে ভষ্মীভূত হয়ে যায় একটি চায়ের দোকান।ঘটনার খবর পেয়ে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে হাজীর হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও সমগ্র দোকানটি পুড়ে ভষ্মীভূত হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ের রায়বাঘিনী মোড়ে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে,ক্যানিংয়ের দিঘীরপাড় পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সত্যজিৎ চক্রবর্তী(ছোট বাপি)।দরিদ্র পরিবার। স্থানীয় রায়বাঘিনী মোড়ে একটি চায়ের দোকান রয়েছে। চায়ের দোকানের উপর নির্ভর করেই সংসার নির্বাহ করেন।ইদানিং একটি পায়ের সমস্যার জন্য শারীরিকভাবে অসুস্থ বাপি। চিকিৎসার জন্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে গিয়েও সমস্যার সুরাহা হয়নি।অবশেষে চেন্নাইয়ের কাটপাটি তে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন সকলেই। সেই মতো আগামী ৬ সেপ্টেম্বর কাটপাটি যাওয়ার জন্য ৪৪ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলেন।দোকানের মধ্যেই সেই টাকাও রাখাছিল।অন্যান্য দিনের মতো বুধবার রাত প্রায় বারোটার সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ি গিয়েছিলেন।আচমকা ভোর তিনটে নাগাদ ফোন আসে দোকান ঘর দাউ দাউ করে জ্বলছে।খবর পেয়েই তিন মিনিটের মধ্যে দোকানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগিয়েছিল। আগুনের লেলিহান শিখার কাছে হার মানে সকলেন। খবর দেওয়া হয় দমকল কে। দ্রুততার সাথে দমকলের দুটি ইঞ্জিন হাজীর হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। প্রায় আধঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে সমস্ত কিছুই পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।
দমকলের প্রাথমিক অনুমান,সম্ভবত শর্টসার্কিট হয়ে এমন ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় যুবক শুভ নাইয়া জানিয়েছে,দমকল ঠিক সময় মতো হাজীর না হলে এলাকার সমস্ত দোকান পুড়ে ছারখার হয়ে যেতাে।আর যে চায়ের দোকানটি পুড়ে গিয়েছে তার কিছুই অবশিষ্ট নেই।ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা।দোকান মালিক অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য ভেলোর যাওয়ার কথা। এখন তাঁর জীবন সংশয়ের মুখে।’
অন্যদিকে দোকান মালিক বাপি জানিয়েছে,‘চায়ের দোকানের উপর নির্ভর করেই সংসার চলে। ইদানিং আমার একটি পায়ের সমস্যার জন্য বহু যায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি।সমধান হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শে ভেলোর যাওয়ার কথা আগামী ৬ সেপ্টেম্বর।নগদ ৪৪ হাজার টাকা জোগাড় করে দোকানেই রেখেছিলাম। আগুনের গ্রাসে তা সব শেষ।দোকানের মালপত্তর মিলে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।কিভাবে বাঁচবো এবং নিজের চিকিৎসা করাবো ভেবে পাচ্ছি না।যদি বন্ধুবান্ধব বা অন্যকেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।’