যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাতে হয় সাধারণ মানুষকেই  : অবসরপ্রাপ্ত সেনাকমী

যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাতে হয় সাধারণ মানুষকেই  : অবসরপ্রাপ্ত সেনাকমী

অভীক মিত্র,সিউড়ি : যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাতে হয় সাধারণ মানুষকেই বললেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকমী সিউড়ি হাটজনবাজারের বাসিন্দা মৃনালকান্তি দাস । যুদ্ধের রোমাঞ্চ নয় বরং যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরলেন কার্গিল যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী মৃণালকান্তি দাস । কার্গিল দিবসে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ কখনওই কাম্য নয় কারণ যুদ্ধ মানেই নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, বিপুল অর্থব্যয় এবং দেশের অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ । মৃণালকান্তি দাস ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনার কর্পস অফ সিগন্যালস-এ নায়েব সুবেদার সিগন্যাল অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন । তখন তাঁর পোস্টিং ছিল জম্মু কাশ্মীরের উধমপুরে । সেখান থেকে বিশেষ যোগাযোগ বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাঁকে কার্গিল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের পান্দ্রাস এলাকায় পাঠানো হয় । সেখানে টানা ১৩দিন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন । তিনি বলেন, "প্রথম কয়েকদিন প্রবল আতঙ্কে কেটেছিল। খেতে বসার মাঝেই গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে যেত । মনে হতো, আর হয়তো জীবিত ফেরা হবে না । তবে সময়ের সঙ্গে ভয় কাটিয়ে দায়িত্বই হয়ে ওঠে একমাত্র লক্ষ্য । যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো মেস না থাকায় নিজেদেরই রান্না করতে হতো । প্রথমদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরাই তাঁদের রুটি ও অরহড় ডাল খেতে দিতেন । সেই গ্রামবাসীদের কাছ থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, সাধারণ কাশ্মীরিরাও যুদ্ধ চান না; জঙ্গিদের ভয়ে বাধ্য হয়েই অনেক কিছু মেনে নিতে হয় ।" মৃণালকান্তি দাস জানান, যুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট মেনে চলতে হতো । রাতে কোনো আলো জ্বালানোর উপায় ছিল না । গাড়ির জানালাও কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হতো, যাতে শত্রুপক্ষ অবস্থান বুঝতে না পারে । বিগত বেশ কিছু বছর ধরে লাগাতার ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতীয় সেনার সক্ষমতার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে । তাঁর দাবি, যুদ্ধ বাধলে পাকিস্তান সেনা দীর্ঘক্ষণ টিকতে পারবে না । তবে তাঁর প্রত্যাশা একটাই—যুদ্ধ যেন না হয় কারণ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাতে হয় সাধারণ মানুষকেই । তাঁর ছেলে বর্তমানে ভারতীয় সেনায় কর্মরত । তাই যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দেশের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস রয়েছে ।