শুভেন্দু অধিকার ও হুমায়ুন কবীরকে গাছে বেঁধে ঝাঁটা পেটার নিদান দিলেন তৃণমূল নেতা

শুভেন্দু অধিকার ও হুমায়ুন কবীরকে গাছে বেঁধে ঝাঁটা পেটার নিদান দিলেন তৃণমূল নেতা
সুভাষ চন্দ্র দাশ,গোসাবা - ২০২৬ শুরু হতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হল।পয়লা জানুয়ারী তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯ তম প্রতিষ্ঠা দিবস মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির কে গাছে বেঁধে ঝাঁটা পেটা করার নিদান দিলেন গোসাবা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকারী সভাপতি ঝোড়ো ওরফে সুবিদ আলি ঢালি। 
প্রকাশ্য মঞ্চে তৃণমূল নেতার এমন বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। 
বৃহষ্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয় গোসাবার পাঠানখালি বাজারে।প্রতিষ্ঠা দিবস মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গোসাবা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকারী সভাপতি,গোসাবা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সহ পাঠানখালি অঞ্চলের একাধিক নেতৃত্ব। তবে দেখা দেখা মেলেনি গোসাবার বিধায়ক সুব্রত মন্ডল সহ বিধায়ক অনুগামী তৃণমূল নেতৃত্বদের। 
এদি অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অর্ন্তদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এনে ক্ষোভ উগরে দিলেন গোসাবা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকারী সভাপতি ঝোড়ো ঢালি।তিনি বলেন, ‘কোন সময় আর একটা টীম তৈরি হল দলের মধ্যে। শুরু হল মতানৈক্য। বিধায়ক সুব্রত মন্ডল একদিকে আর আমরা কজন নেতা একদিকে।  এরকম একটা জায়গা তৈরি করলেন বিধায়ক।একজন বিধায়ককে গোটা তিন বছর আমরা তাকে ঘরে ঢুকিয়ে রেখেছি শওকাত মোল্লার নেতৃত্বে।আমি শুধু বলতে চাই গোসাবায় তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে বেঁচে থাকবে কি না সেই দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।’
এরপর তিনি শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর কে আক্রমণ করে বলেন, ‘যারা চেয়ারের লোভী, যারা দলের জন্য চেয়ার কামী তাদেরকে গাছের গায়ে বাঁধা দরকার।শুভেন্দু অধিকারী তুমি রাজনৈতিক ফায়দা নেবে বলে মিছিল বার করেছো, হিন্দু বাঁচাও স্লোগান দিচ্ছো। অপরদিকে কলির কেষ্ট হুমায়ুন কবীর বলছে মুসলমান বাঁচাও। আর একদিকে ছদ্মবেশী নায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বার করেছে ইসলাম বাঁচাও। এদেরকে গাছের গায়ে বেঁধে ঝাঁটা পেটা করা উচিত। এই হুমায়ুন কবীরের মতো লোক ধর্ম বিক্রি করছে। কোটি কোটি টাকা তুলছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো লোক ধর্ম বিক্রি করছে।’
পরে দলের কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন ‘আমি মঞ্চে ব্লক নেতৃত্বদের একটা কথা বলতে চাই , আগে নিজের বুথ গুলো বাঁচাও। আগে নিজের অঞ্চল গুলো বাঁচাও । তারপরে ব্লকের নেতা হওয়ার চিন্তা ভাবনা করো।২০২৬ এ এইরকম নেতাদের আমরা যদি কোনভাবে এলাকায় আনাগোনা দেখি সেই এলাকার নেতৃত্ব ছাড় পাবে না। গাছের গায়ে বেঁধে পেটাবো। ’
তৃণমূল নেতার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা সঞ্জয় নায়েক বলেছেন, ‘যিনি রাজ্যের দশ কোটি মানুষের স্বার্থে লড়ছেন,সেই বিরোধী দলনেতা কে গাছে বেঁধে ঝাঁটা পেটার নিদান দিয়েছেন তৃণমূল নেতা ঝোড়ো ঢালি। এটা লজ্জাজনক। তৃণমূল কংগ্রেসের কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।গোসাবার মানুষজন ঝাঁটা জুতো তুলে রেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই সমস্ত নেতৃত্বের জন্য’।