বরুণ মণ্ডল : দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে রাজ্যর প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের আর্থিক সহায়তায় ও কলকাতা পৌরসংস্থার স্বাস্থ্য পরিষেবা দফতরের উদ্যোগে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একটি করে পথকুকুরদের জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের ভ্যাকসিনেশন ও পথ কুকুরের বংশবৃদ্ধি রোধে নির্বীজকরণ প্রক্রিয়া ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হল। এদিন ভবানীপুরের কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র পারিষদ অসীম কুমার বোসের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ডা. রাজেন্দ্র রোডস্থিত নর্দার্ন পার্ক ও বিদ্যাঞ্জলী স্কুলের এলাকা থেকে ‘ওয়ার্ড-বেসড স্ট্রে ডক ভ্যাকসিনেশন ও নির্বীজকরণ প্রক্রিয়া শুরু করলেন কলকাতা পৌরসংস্থার উপমহানাগরিক অতীন ঘোষ। মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ জানান, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডেই ক্যাম্প করে পথকুকুরদের নির্বীজকরণ হবে। একবছরের মধ্যে কমবেশি ৪০ হাজার পথকুকুরের নির্বীজকরণের লক্ষ্য মাত্রা ধার্য করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই ক্যাম্প করে নির্বীজকরণের পর পথকুকুরদের সুস্থ করে সেই এলাকাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে'। তিনি আরও বলেন, ‘ধাপার বর্তমান ডগ পাউন্ডে কমবেশি ২০০টি এবং এন্টালি ডগ পাউন্ডে কমবেশি ৫০টি পথকুকুর রাখা সম্ভব। তাই নতুন ডগ পাউন্ড গড়ে তিন - চার হাজার পথকুকুর রাখার পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আরও অন্তত পাঁচজন ভেটেরিনারি ডাক্তার মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে'র মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। কলকাতা পৌরসংস্থা বর্তমানে ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নিখরচায় কুকুর কামড়ের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।' এদিকে, গৃহপালিত পোষ্য কুকুরদের লাইসেন্স নিয়ে কলকাতা পৌরসংস্থা কড়া অবস্থান নিয়েছে। বাড়িতে কুকুর পুষলে লাইসেন্স আবশ্যিক করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন না-থাকলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। বাড়িতে এক মাসের বেশি বয়সের কুকুর রাখলে রেজিস্ট্রেশন আবশ্যিক। কলকাতা পৌরসংস্থার তরফ থেকে এক বছরের জন্য পেট রেজিস্ট্রেশন(লাইসেন্স) দেওয়া হয়। অফলাইন - অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা যায়। প্রতি বছর নবীকরণ করতে হয়। লাইসেন্স না করলে দু'টি ধারায় মামলা করার নিদান রয়েছে। লাইসেন্সের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্প কলকাতা জুড়ে আয়োজিত হবে। তবে পথ কুকুরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে কলকাতা পৌরসংস্থাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।