নশিরহাট দাসপাড়া বড়ি গ্রাম বলেই পরিচিত

নশিরহাট দাসপাড়া বড়ি গ্রাম বলেই পরিচিত
তপন চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি গ্রাম রয়েছে যার নাম নসিরহাট দাস পাড়া। তবে এই গ্রামের নাম নসিরহাট দাসপাড়া হলেও অনেকের কাছে এই গ্রাম বড়ি গ্রাম নামেই পরিচিত। বড়ি গ্রাম নাম হয়েছে তার অবশ্য পর্যাপ্ত কারণও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামের প্রায় বেশিরভাগ পরিবারই  বড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বড়ি বেচেই চলে তাদের সংসার। জানা গিয়েছে গ্রামের কেউ ২০ বছর, কেউ ২৪ বছর, আবার কেউ ৩০ বছর ধরে এই বড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়বে মাঠে রোদের মধ্যে সারিবদ্ধ ভাবে চলছে বড়ি শুকনোর কাজ। প্রায় প্রত্যেকেই ব্যস্ত থাকেন তাদের বড়ি তৈরির কাজে। মুগ ডাল, কলাই ডাল আবার বিউলি ডাল দিয়েও বডি তৈরি হয়। বড়ি তৈরির জন্য আগের দিন রাতে জলের মধ্যে ডাল ভিজিয়ে রাখা হয়। পরের দিন সকালে সেই ডাল পিষে ফেটে তারপর হাতের সাহায্যে বরি দেওয়া হয়। সেই বড়ি দুদিন ধরে রোদে শুকিয়ে তারপর প্যাকেজিং হয়ে বিক্রি জন্য বেরিয়ে যায় বিভিন্ন জায়গায়।
বাঙালির খাদ্যাভাসে বেশ কিছু লোভনীয় পদ হলো সুক্ত, পোস্ত এবং পাঁচ মিশালি তরকারি। তবে এইসব রান্নায় অনেকেই বড়ি দিয়ে রান্না করতে এবং খেতে পছন্দ করেন। তরকারিতে বড়ি পড়লে যেন তার স্বাদের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই গ্রামের বড়ি শিল্প একদিকে যেমন বাজারে চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে তেমনি এই বড়ি শিল্পের হাত ধরে স্বনির্ভর হচ্ছেন গ্রামের মহিলারাও। বড়ি হল এক ধরনের খাবার যা শীতকালের তৈরি করে সারা বছর বিভিন্ন তরকারিতে খাওয়া হয়ে থাকে। শীতকালে ফুলকপি হোক কিংবা মাছের ঝোল বা শুক্ত সবকিছুতেই বড়ি ব্যবহার হয়ে থাকে।  আগেকার দিনে মহিলারা বাড়িতে বড়ি বানালেও বর্তমান কর্মব্যস্ততার যুগে বাড়ির গৃহিণীদের সময়ে হয়ে ওঠে না আর। আর সেই কারণে বাজার চলতি বড়ি কিনে খেতে হয় সকলের। তবে বিপুল পরিমাণে এই বড়ির চাহিদা মেটানোর জন্য গ্রামের বিভিন্ন মহিলা ও পুরুষরা এখনো তা বানিয়ে থাকেন। এবং সেগুলি বিভিন্ন পাইকারি বাজারের সরবরাহ করেন। এমনই কয়েকজন বড়ি শিল্পীর সাথে দেখা হল যার নাম কালীচরণ দাস গৌরাঙ্গ দাস। কালী চরণ দাস জানান, কবে থেকে বড়ি বানায় সেটা বলা মুশকিল। বড়ি বানিয়েই সংসার চলে। গৌরাঙ্গ দাস বলেন, 'বড়ি বানানোটাও একটা কুটির শিল্প।সরকার আমাদের এইসব কাজে কোন উৎসাহ দেয় না। যদি সরকার আমাদের সামান্য পরিমাণে ঋণের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমরা আরো বেশি পরিমাণ বড়ি বানিয়ে ভালো লাভের মুখ দেখতে পারতাম।'