পশ্চিমবঙ্গের জন্য ₹৩.৯৯ লক্ষ কোটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক ঋণ সম্ভাবনা

পশ্চিমবঙ্গের জন্য ₹৩.৯৯ লক্ষ কোটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক ঋণ সম্ভাবনা
প্রীতম দাস: ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (NABARD)-এর পশ্চিমবঙ্গ আঞ্চলিক কার্যালয় আজ কলকাতায় সফলভাবে রাজ্য ক্রেডিট সেমিনার ২০২৬-এর আয়োজন করে এবং স্টেট ফোকাস পেপার ২০২৬–২৭ প্রকাশ করে। এতে অর্থবর্ষ ২০২৬–২৭–এর জন্য পশ্চিমবঙ্গে ₹৩,৯৯,১২৭ কোটি টাকার অগ্রাধিকার ক্ষেত্র ঋণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
স্টেট ফোকাস পেপারটি জেলা-স্তরের পোটেনশিয়াল লিঙ্কড প্ল্যানসমূহকে একত্রিত করে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ব্যাংক, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর এবং উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি। এটি অর্থবর্ষ ২০২৬–২৭–এর জন্য রাজ্যের বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দিশা দেখাবে।
বিকশিত ভারত@২০৪৭–এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সেমিনারে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, আধুনিক গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং পশ্চিমবঙ্গের ৯.১ কোটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবাহিত করার বিষয়ে সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সেমিনারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী প্রভাত কুমার মিশ্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেট ফোকাস পেপার উন্মোচন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের কৃষি দফতরের প্রধান সচিব শ্রী ওঙ্কার সিং মীনা, এসএলবিসি–র জেনারেল ম্যানেজার ও আহ্বায়ক শ্রী বলবীর সিং, রাজ্য সরকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ আধিকারিকরা।
মূল বক্তব্যে শ্রী মিশ্র NABARD, রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন, যাতে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়। পশ্চিমবঙ্গের বৈচিত্র্যময় কৃষি-আবহাওয়াগত অঞ্চলে বিদ্যমান সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বিশেষভাবে মৎস্য খাতে উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং উপভোক্তাদের জন্য সুস্থায়ী সহায়তা, কার্যকর ঋণ সংযোগ ও ঝুঁকি প্রশমনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি রাজ্যের ঋণ সম্ভাবনা নিরূপণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে NABARD–এর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
NABARD–এর চিফ জেনারেল ম্যানেজার শ্রী পি. কে. ভরদ্বাজ জানান, মোট প্রস্তাবিত ₹৩.৯৯ লক্ষ কোটির মধ্যে কৃষি ক্ষেত্র—যার মধ্যে কৃষি পরিকাঠামো ও সহায়ক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত—₹১.৩৭ লক্ষ কোটি (৩৪ শতাংশ) অংশীদারিত্ব বহন করছে। তিনি কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO) শক্তিশালী করা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন উদ্যোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে সুস্থায়ী কৃষি বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।
দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ লক্ষ অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মধ্যমানের সংস্থা–সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গে অর্থবর্ষ ২০২৬–২৭–এর জন্য MSME ক্ষেত্রে NABARD ₹২.০৭ লক্ষ কোটি (৫১.৮ শতাংশ) ঋণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করেছে, যা কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে এই ক্ষেত্রের গুরুত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে।
এছাড়া আবাসন, শিক্ষা, সামাজিক পরিকাঠামো, রপ্তানি ঋণ, নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং SHG/JLG অর্থায়ন-সহ অন্যান্য অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের জন্য ₹৫৩,৭২৪ কোটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেমিনারে মৎস্য ও MSME ক্ষেত্র–কেন্দ্রিক সেক্টরাল স্টাডি প্রকাশ করা হয় এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (RIDF) ও ফার্ম সেক্টর প্রমোশন ফান্ড–এর আওতায় সমর্থিত প্রকল্পগুলির উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা রাজ্যে গ্রামীণ পরিকাঠামো ও উদ্যোগ বিকাশে NABARD–এর ধারাবাহিক অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে।