ভোটের মুখে হুগলির শিল্পতালুককে চাঙ্গা করতে এগিয়ে এলো রাজ্য সরকার

ভোটের মুখে হুগলির শিল্পতালুককে চাঙ্গা করতে এগিয়ে এলো রাজ্য সরকার
মলয় সুর, হুগলি; একসময় সিঙ্গুর থেকে ন্যানো গাড়ি বিদায়ের পরে রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে হুগলি জেলাকে সামনের সারিতে তুলে আনতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকেই এখন পাখির চোখ করতে চাইছে রাজ্য সরকার। তার জন্য একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য শিল্প দপ্তর। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মনোনয়ন ঘটাতে হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হচ্ছে নতুন শিল্পতালুক। শিল্প স্থাপনের জন্য যেখানে সব রকমের সুবিধা মিলবে। তার  মাধ্যমে জেলায় বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তার মাধ্যমে জেলায়  বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদী শিল্প দপ্তরের অধিকর্তারা। চুঁচুড়া রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত এক শিল্প বৈঠকে সাংবাদিক সম্মেলনে (সিনারজি) যে সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাতে এমনি কথা শোনানো হয়েছে। সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরি সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে রাতারাতি প্রচারের আলোয় চলে এসেছিল সিঙ্গুর। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের জমি আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ন্যানোকারখানা গুজরাটের সানন্দে চলে যায়। বর্তমানে জায়গাটা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। সেটা কি আবার পুনরুদ্ধার করতে জমি আন্দোলনের আঁতু ঘরেই ক্ষুদ্র মাঝারি ধরনের শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। তার জন্য সিঙ্গুরের জাতীয় সড়কের লাগোয়া বোড়াই তেলের মোড়ে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। তার চার ধারে চলছে পাঁচিল তোলার কাজ। সেখানেই  গড়ে উঠবে কৃষিভিত্তিক শিল্প । সিঙ্গুর মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। সেই কারণেই কৃষিভিত্তিক শিল্পের উপরে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। সেটা হলে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানে সুযোগ তৈরি হবে। রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী তথা সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্নার কথায়, সিঙ্গুরে এখনো তিন ফসলি জমি রয়েছে।।এখানে আলু ধান ও আনাজের ফলন ভালো হয়। বিশেষ করে আলুকে শুধুমাত্র রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প ক্ষেত্রে আলুর ব্যবহার বাড়ানো দরকার। আলুর চিপস ও খাদ্য সামগ্রী তৈরি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাতে কৃষকরা লাভবান হবেন। শিল্প তালুকের জন্য ১৮০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। তা থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৫ হাজার জনের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া ধনেখালির দশঘড়ায় অবস্থিত হ্যান্ড মেড পেপার সেন্টার পুনরোজ্জীবিত করার কাজ চলছে। তার জন্য ১.৭৪ কোটি টাকা খরচ হবে। হুগলি জেলায় বেসরকারি শিল্প তালুক তৈরি করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায় রাজ্য সরকার।