কয়েক কোটি মানুষের সমাগমের আশা করছেন সন্ন্যাসীরা

কয়েক কোটি মানুষের সমাগমের আশা করছেন সন্ন্যাসীরা

মেলার জন্য প্রস্তুত কপিলমুনি আশ্রম কতৃপক্ষ। কয়েক কোটি মানুষের সমাগমের আশা করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশ থেকে মহন্তজী এসে উপস্থিত হয়েছেন শেষ সময়ের কাজ খতিয়ে দেখতে। পৌষ মাস পড়তে না পড়তেই পুণ্যার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে সাগরতটে কপিলমুনিকে পুজো দিয়ে মেলার ভিড় এড়াচ্ছেন তারা।
কেমন ভাবে প্রস্তুত কপিলমুনি আশ্রম তা আমাদের একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সন্ন্যাসী মোহিত দাস, 'প্রত্যেক বছর গঙ্গাসাগর মেলা হয় কিন্তু আগের বছর ছিল মহাকুম্ভ মেলা। যার কারণে প্রচুর মানুষ সেখানে গিয়েছিল। সময়ের অভাবে সাগরে তারা আসতে পারে নি। এই কারণে এই বছর আমাদের যা পরিকল্পনা তা অনুযায়ী প্রচুর মানুষ সাগরে আসবেন। এই সংখ্যাটা প্রায় ২-৪ কোটিও যেতে পারে। মেলা তো এখন থেকেই প্রায় শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৬-এ ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে প্রায় ১০ কোটি মানুষের সাগর সঙ্গমে আসার আশা রাখছি আমরা। তাদের পূজা, খাবার ও যাঁরা রাত কাটাতে চান তাদের রাত কাটানোর ব্যবস্থা মন্দির কমিটি যতটা সম্ভব চেষ্টা করছে করবার। আশ্রম এবং ৪টি তাঁবু মিলিয়ে আমরা প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করেছি। শ্রী জ্ঞানদাসজী মহারাজ আসার পর মেলার জৌলুস আরো বেড়ে যাবে। মহন্তজী আসার পর এখানে ভিআইপি কার্যকলাপ আরোও বেড়ে যায় এবং তারা যাতে সব রকম সুবিধা পান সেটা উনি লক্ষ্য রাখে। মহন্তজী আমাদের সবাইকে নিজেদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের অখণ্ড কীর্তন হয়েছে, শেষে সাধু ভাণ্ডারা ও যজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। মেলাকে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আমাদের সাহায্য করে প্রত্যেক বছর। পুলিশি ব্যবস্থাও ভালো থাকে মেলার সময়। মেলার মুখ্য দিনটি হল পৌষ সংক্রান্তির দিন। সেই দিনই মা গঙ্গা সাগরের সাথে মিশেছিল। তাই মানুষের মধ্যে এই মান্যতা আছে যে যদি সংক্রান্তির দিন তারা স্নান করে তবে তাদের সমস্ত পাপ ধুয়ে যাবে। গঙ্গাসাগরে পুরো ভারতবর্ষ থেকে লোক আসেন, স্নান করেন, কপিলমুনি মন্দিরে পুজো দেন তাদের নিজেদের আস্থা নিয়ে। সবার পক্ষে মেলা চলাকালীন আসা সম্ভব হয় না। তাই মেলার আগে পরেও প্রচুর লোক আসে। সাধারণ মানুষ ছাড়াও প্রচুর সাধুও আসেন মেলার সময়। এই সময় মন্দির পরিষদের আশ্রম শুধুমাত্র সাধুদের জন্যই থাকে বাকি ভক্তদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়। মন্দিরে প্রায় ৫০০০ সাধুদের থাকা এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, 'আমরাও মেলা নিয়ে প্রচুর উৎসাহিত থাকি প্রতি বছর, এই বছরও তার অন্যথা হয়নি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে কপিলমুনি আশ্রমে আগত প্রত্যেক মানুষই যেন ভগবানের দর্শন করতে পারে, কেউ যাতে খালি হাতে ফেরত না যায়। শুধু আশা করবো এই বছরের মেলাও সরকারের সাহায্যে ভালো ভাবে সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হোক।'