ঠান্ডা পড়তেই গ্রামবাংলায় ময়দান পরিচর্যায় ব্যস্ততা ক্রীড়ামোদীদের
দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: সবেমাত্র উত্তুরে বাতাস বইতে শুরু করায় এইমুহূর্তে শীতের আমেজ উপভোগ করছে রাজ্যবাসী।শীতের রকমারী শাকসবজির বাহার আর লোভনীয় নলেনগুড়ের সুবাসে ম-ম করছে সর্বত্র হাটবাজার।রাঢ়বঙ্গজুড়ে ইতিমধ্যেই নতুন ধানের পরব নবান্ন উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষকদের অনেকেই রবিশস্য সহ বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এসবের পাশাপাশি এসময় খেলাধুলার জগতেও ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।গ্রামবাংলায় ময়দান পরিচর্যায় মেতে উঠেছে ক্রীড়ামোদীরা।কোথাও মাঠে ক্রিকেটের পিচ তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে।কোথাও ফুটবল খেলার ময়দান সমান করার কাজ চলছে জোরকদমে।আবার কোথাও হিমশীতল রাতে আমেজে গা’ভাসিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য কোর্ট তৈরি করা হয়েছে।গ্রামবাংলায় সারাটা বছর যে খেলাধুলার চর্চা হয় না সেটা নয়।তবে, বছরের এই সময়টায় অর্থাৎ ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল পরিবেশ খেলাধুলার জগতে নিঃসন্দেহে একটা আলাদা মাত্রা যোগ করে।এবারও যার অন্যথা হয়নি।সুজলা-সুফলা-শস্যশ্যামলা বঙ্গে রুক্ষ-শুষ্ক গ্রীষ্মকাল হোক কিংবা বৃষ্টিস্নাত বর্ষাকাল..ময়দান দাপিয়ে খেলাধুলার চিত্রটা বড্ড করুণ!অথচ একসময় গ্রামবাংলার ময়দানগুলি এমন ছিল না।গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শীত..সকাল-সন্ধ্যায় ফুটবল, কাবাডি সহ ছেলেমেয়েদের দৌড়-ঝাঁপ আর চিৎকারে প্রতিটি ময়দান মুখরিত হয়ে উঠত।বর্তমানে টেকস্যাভির জমানায় স্মার্টফোন আর চ্যাটিংয়ের ফাঁদে পড়ে তরুণ প্রজন্মের বড়ো অংশই মাঠমুখী হতে ভুলে গিয়েছে।তারা স্মার্টফোনেই গেম খেলে আর খেলাধুলার খবরে ডুবে থাকতে ভালোবাসে।এইসময় মাঠে গিয়ে খেলাধুলায় গা ঘামানোয় তাদের কার্যত অনীহা।তবে, এই মাসচারেক শীতের আমেজটাই তাদের একাংশকে কিছুদিনের জন্য মাঠমুখী করে তোলে।বিশেষ করে ক্রিকেট আর ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য পাড়ার ময়দানগুলি এসময় তরুণ প্রজন্মের দাপাদাপিতে মুখরিত হয়।পূর্ব বর্ধমান জেলার সীমান্তবর্তী কাটোয়া ২ নং ব্লকের সুপ্রাচীন বর্ধিষ্ণু এক জনপদ সিঙ্গি গ্রাম।এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ‘মহাভারত’ প্রণেতা মহাকবি কাশীরাম দাস।বিশালাকার এই জনপদের বাসিন্দাদের খেলাধুলার জন্য একটা বড়সড় মাঠও রয়েছে।এবারে শীতের প্রাক্কালেই সিঙ্গি কাশীরাম দাস অ্যাথলেটিক ক্লাব কয়েক হাজার টাকা খরচে রোলার নামিয়ে সেই মাঠটিকে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার জন্য উদ্যোগী হয়েছে।একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এসময় জেলাজুড়ে আরও বিভিন্ন ময়দান পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্রীড়ামোদীরা।শীতের মরশুমে পাড়ায় পাড়ায় ছোটবড়ো ময়দানগুলির এভাবে পরিচর্যা শুরু হওয়ায় গ্রামবাংলার খেলাধুলার জগৎ অনেকখানিই উপকৃত হবে বলে আশাবাদী ক্রীড়ামহল।
admin