নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র পরিযায়ী পাখির টানেই চুপীতে পর্যটকরা
দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: পদে পদে পরিকাঠামোগত একাধিক সমস্যা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র পরিযায়ী পাখিদের আকর্ষণে শীতের শুরুতেই প্রকৃতিপ্রেমীর ভিড় বাড়তে শুরু করেছে চুপীতে।পূর্ব বর্ধমান জেলার সীমান্তবর্তী পূর্বস্থলী থানার অন্তর্গত চুপী এলাকায় ছাড়িগঙ্গা এই মুহূর্তে পরিযায়ী পাখিদের কলতানে মুখরিত।সুবিশাল জলাভূমিজুড়ে শত শত ভিনদেশি অতিথির ভিড়ে দেশীয় পাখিরাও স্বচ্ছন্দ্যে রয়েছে।আর এদের স্বতস্ফূর্ত জীবনযাপন এবং গতিবিধি খুব কাছ থেকে দেখতেই মাসচারেক ধরে প্রকৃতিপ্রেমী তথা পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে থাকে চুপী।সবমিলিয়ে প্রতিবার ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত চুপী এলাকাটি বেশ জমজমাট হয়ে থাকে।এবারও যার অন্যথা হবে না বলেই স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত।প্রতিবছর এসময় পশ্চিমবঙ্গের যেকয়টি জায়গা ভিনদেশি পরিযায়ী পাখিদের জমজমাট ভিড়ের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত ‘চুপী পাখিরালয়’।ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী তথা হাওড়া-কাটোয়া রেলপথে পূর্বস্থলী স্টেশনের অদূরেই অবস্থিত এই ছাড়িগঙ্গার সুবিশাল জলভাগটি এসময় পরিযায়ী পাখিদের(লেসার উইসলিং, পিনটেল, প্রচারড, অস্ট্রে প্রভৃতি) কার্যত বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়।প্রকৃতিপ্রেমীরা এই ভিনদেশি অতিথিদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতেই তাদের কাছাকাছি পৌঁছে যান।এজন্য প্রয়োজন হয় নৌকা।স্থানীয় মাঝিরা ঘন্টা পিছু চুক্তিতে নৌকায় পর্যটকদের ঘুরিয়ে থাকেন।মূলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পর্যটকদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে নৌকা ভাড়া বা চুক্তি ঠিক হয়।উৎসবমুখর দিনগুলিতে পর্যটকদের চাপ থাকায় সেসময় নৌকাভাড়ায় লাগাম থাকে না বলে ভুক্তভোগী পর্যটকদের অভিযোগ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাখির টানে বিগত কয়েক বছর ধরে চুপীতে দেশবিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরাও যাতায়াত করছেন।বর্তমানে ‘চুপী পাখিরালয়’ নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ ক্রমবর্ধমান।তবে পর্যটকদের সুবিধার্থে যে ধরনের পরিকাঠামোগত উন্নতি সহ পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রয়োজন হয় তার অনেক ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে বলে একাধিক মহল থেকে প্রায়শই অভিযোগ ওঠে।যেমন ‘চুপী পাখিরালয়’ যাওয়ার রাস্তাটির অনেকাংশ বেহাল হয়ে রয়েছে।সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সুলভ শৌচাগারগুলি প্রায়শই অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে।পিকনিক পার্টিগুলির ওপরে প্রশাসনিক ঢিলেঢালা নজরদারির কারণে এলাকায় নোংরা আবর্জনা জমে থাকে। পাশাপাশি লাউডস্পিকারের দৌরাত্ম্যে নিরিবিলি পরিবেশও বিঘ্নিত হয়।তবে বড়োদিন, পয়লা জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবস সহ উৎসবমুখর দিনগুলিতে পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় পুলিশ-প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি থাকে।যদিও এখানে অত্যাধুনিক সুবিধাযুক্ত একাধিক সুসজ্জিত অতিথি নিবাস গড়ে উঠেছে।যেখানে পর্যটকরা নিরাপদে রাত্রিযাপনের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করতেই পারেন।তবে, এসবের জন্য এসময়টায় অগ্রীম বুকিং করতে হবে বলে জানিয়েছেন এখানকার একটি অতিথি নিবাসের ম্যানেজার অভিজিৎ দে।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, চুপী পাখিরালয়কে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মধ্যে যেরকম আগ্রহ বাড়ছে তাতে এখানকার রাস্তাঘাট সহ যাবতীয় পরিকাঠামোগত আরও উন্নয়নের প্রয়োজন এবং এবিষয়ে প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে নজর দিতে হবে।
admin