সুভাষ চন্দ্র দাশ,সুন্দরবন - গত কয়েক বছরের খরা কাটিয়ে এবার ঠান্ডার মধ্যেই সুন্দরবনের নদীতে হাজির পরিযায়ী পাখির দল। বিভিন্ন পরিযায়ী পাখির দল এই মুহূর্তে বিরাজ করছে সুন্দরবনের বিভিন এলাকায়। এর ফলে খুশি হচ্ছেন সুন্দরবন ভ্রমণ পিপাসু দে বিদেশের হাজার হাজার পর্যটকরা। দলে দলে নদীতে ভাসতে থাকা পরিযায়ী পাখির ছবি তুলছেন তাঁরা। গত কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনের পরিযায়ী পাখি দেখা সেইভাবে মিলছিল না। এবার হঠাৎ করে দেখা পাওয়া গেছে বেশি সংখ্যক পরিযায়ী পাখি।
পাখি বিশারদেরা জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতপ্রধান দেশগুলিতে ঠান্ডা অত্যন্ত বেশি থাকে। সেখান থেকে পাখিরা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাধারণত কম ঠান্ডার দেশে চলে আসে। কিছু দিন কাটিয়ে আবারও তাতার তাদের গন্তব্যে ফিরে যায়। রাশিয়া, আমেরিকা, সাইবেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড থেকে শীতের সুন্দরবনে আসে বহু পাখি।
বিভিন্ন দেশের ৪০টির বেশি প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে এখানে। সুন্দরবনে সমীক্ষা চালিয়ে জানতে পেরেছে, রাশিয়ার সাইবেরিয়া থেকে কারলিউ (বড় গুলিন্দা), ফিনল্যান্ড থেকে ছোট গুলিন্দা (হুইমব্রেল), চিন, তুর্কিস্তান থেকে স্নাইপ (কাদাখোঁচা), তিব্বত থেকে মিঠুয়া (প্লোভার) পাখিরা সুন্দরবনে আসে। এ ছাড়াও, চখাচখি (রুড্ডি শেলডাক), ছোট দিঘর (গাডওয়াল), বামুনিয়া (টাফটেড ডাক) বিলিতি জিরিয়া (কেন্টিস) পাখিদেরও দেখা মেলে সুন্দরবনে।
সুন্দরবনে পাখির পরিসংখ্যান কি তা জানার জন্য ইতিমধ্যেই বার্ড ফটোগ্রাফির আয়োজন করে থাকে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ। মূলত পাখি হত্যা বন্ধ হওয়া এবং ম্যানগ্রোভের জঙ্গলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই বেড়েছে পাখি আসার প্রবণতা। এ বিষয়ে ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিবছর বেড়েছে পাখি সংখ্যা। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সুন্দরবন এ বিচরণ করছে। কিছু বিদেশি পাখিও রয়েছে। এবং কিছু স্থানীয় পাখিও আছে। স্থানীয় পাখিদের সারা বছর দেখা গেল বিদেশি পাখিদের সারা বছর দেখা মেলে না। এবছর বিদেশি পাখি প্রচুর পরিমাণে দেখা মিলছে সুন্দরবনের। পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার এবং নিরাপদ বাসস্থান পাখিদের পুনরায় সুন্দরবনকে আকর্ষণ করে তুলেছে।