সুভাষ চন্দ্র দাশ,সুন্দরবন: চলতি বছরের ১১ ও ১২ ডিসেম্বর সুন্দরবন বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ, ওই দুদিন কোনও বোট বা লঞ্চ(জলযান) পর্যটকদের নিয়ে সুন্দরবনে যেতে পারবে না। এক নির্দেশিকা দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ(এসটিআর)। বাঘ শুমারির প্রথম পর্যায়ের কাজ চলবে ওই দুইদিন। তাই সুষ্ঠুভাবে যাতে সেটা হতে পারে তার জন্যই পর্যটকদের জন্য জঙ্গল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টাইগার রিজার্ভ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ১১ ও ১২ তারিখ কোনও অনলাইন বুকিংও করা যাবে না। এই নির্দেশিকা পাওয়ার পর বোট মালিকরা জানান, যাঁদের ওই দুদিন বুকিং আগেই করাছিল, সেটা বাতিল করা হবে। টাইগার রিজার্ভের এক আধিকারিক বলেন, শুমারির প্রথম পর্যায়ের কাজ করতে গেলে শান্ত পরিবেশে দরকার। পর্যটকদের আনাগোনা থাকলে সেই কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই দুদিন জঙ্গলে পর্যটন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে
শুরু হচ্ছে সুন্দরবনে বাঘ গণনার কাজ। সারা ভারতবর্ষের সঙ্গে সুন্দরবনে ও চলবে অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন বা সর্বভারতীয় বাঘ গণনার কাজ।
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি তুলতে ১৪৮৪টি ক্যামেরা বসানো হবে সুন্দরবন জঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে। সব মিলিয়ে ৪১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে সুন্দরবনের রাজার সারাক্ষণের গতিবিধি নজরবন্দি করবে এই সমস্ত ক্যামেরা। এক মাসের বেশি সময় ধরে ক্যামেরার ছবি তোলার মাধ্যমে চলবে এই বাঘ গণনার কাজ। তবে এবারে শুধু বাঘেদের গতিবিধি কিংবা খুনসুঁটি নয়, তাদের খাদ্যের যোগান কেমন সেটাও পর্যবেক্ষণ করা হবে। অর্থাৎ, জঙ্গলে তৃণভোজী যেমন হরিণ, বা বুনো শুকর সহ অন্যান্য প্রাণী যাদের বাঘ শিকার করে খায়, তাদের উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে এই ক্যামেরার মাধ্যমে। এবারই প্রথম এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কাজের জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে সুন্দরবন বনদপ্তরের তরফে। এর সাহায্যে বিশ্লেষণ করতে পারবেন বন দফতরের কর্তারা। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের এক আধিকারিক বলেন, সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘের খাবার পর্যাপ্ত আছে কিনা সেটাই এক প্রকার দেখার চেষ্টা করা হবে। সেই সময় পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা আঞ্চলিক বন বিভাগ এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের আওতাধীন জঙ্গলে একসঙ্গেই এই শুমারির কাজ হবে বলে ঠিক হয়েছে।
ক্যামেরা কীভাবে বসাতে হবে, তার জন্য বনকর্মীদের এক প্রস্থ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ২৬ নভেম্বর থেকে জঙ্গলে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর জন্য সব মিলিয়ে আড়াইশো কর্মীকে বিভিন্ন জায়গায় নিযুক্ত করা হবে। বন বিভাগের এক কর্তার কথায়, বাঘেদের নিজেদের ব্যক্তিগত আচরণ, দৌড়ে শিকার ধরার পদ্ধতি, শাবকদের নিয়ে মা বাঘের গতিবিধি এসব আগেরবার ধরা পড়েছিল। এবারও আশা করা যাচ্ছে, আরও অনেক অজানা তথ্য হাতে আসবে। প্রসঙ্গত, বছর দুই আগে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৯৬। সেটা গতবারের রিপোর্টে প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, এই বাদাবনে এখন একশোর বেশি বাঘের বসবাস। আর এই সময় সুন্দরবনের পর্যটন কে বন্ধ রাখা হবে। তার জন্য আগামী ১১ এবং ১২ ডিসেম্বর বন্ধ থাকবে সুন্দরবন। এর আগে ২০২১-২০২২ সালে সর্বশেষ বাঘ গণনার কাজ হয়েছিল সুন্দরবনে। তখন ৩০ দিন ধরে চলেছিল বাঘ শুমারি কাজ। আর এবার ৩০ দিন নয় ৪৫ দিন ধরে চলবে এই বাঘ গণনার কাজ। মূলত ইনফ্রা -রে প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এই কাজে।
এ বিষয়ে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, শান্ত ভাবে এবং সুষ্ঠুভাবে বাঘ গণনা করার জন্যই আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। এবং যাতে সঠিকভাবে বাঘের পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে সুন্দরবনে এবার বাঘের পরিসংখ্যান অনেকটাই বাড়বে।