দেবর্ষি মজুমদার, শান্তিনিকেতন: যুগোপযোগী শিক্ষায় ব্যবহারিক প্রযুক্তি নির্ভর যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে "বিকাশ -২০২৫" একদিনের এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব আঞ্চলিক ক্ষেত্রের জন্য আলোচিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্প বিশেষজ্ঞ গণ ছাড়াও বিশ্বভারতী উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ, বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এম জগদেশ কুমার, জাতীয় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি নির্মলজিৎ সিং কলসি,
শিক্ষানবিশ সংযুক্ত ডিগ্রি/ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম (সংক্ষেপে এইডিপি) পাঠ্যক্রম নিবন্ধিত মুম্বাই বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য রবীন্দ্র কুলকার্ণি, ভুবনেশ্বর রমা দেবী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জ্যোতির্ময়ী উদগাতা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০'র পর শিক্ষা ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংবিধানের উভয় তালিকায় থাকা সেই জাতীয় শিক্ষা নীতি গ্রহণের পক্ষে এদিন সওয়াল করেন বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এম জগদেশ কুমার। তিনি বলেন, 'বেশ কিছু রাজ্য সেই শিক্ষা নীতি গ্রহণ করায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো কিছু রাজ্য গ্রহণ না করায় তা সার্বিক হয়নি এবং তারফলে যে সকল রাজ্য গ্রহণ করেনি তাদের ছাত্ররা পিছিয়ে পড়বেন এবং তার ফলে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ হারাবেন।' এই জাতীয় শিক্ষা নীতিতে চার বছরের ডিগ্রীর প্রস্তাব দেওয়া আছে। যেটা এখন সারা বিশ্বে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদ এবং পাঠ্যক্রমে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। এরফলে কী লাভ হবে? নিজের করা প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিক বৈঠকে মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, 'বিএ, বিএসসি, বিকম স্তরে স্নাতক হয়ে যদি কর্ম নিযুক্তির সুবিধা না থাকে, তাহলে একদিন সাধারণ স্তরের পঠন পাঠনের জন্য ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যাবে না। এর জন্য কমিশন শিল্প বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী, শিল্পপতিদের সাথে কথা বলে আলোচনা সাপেক্ষে অতিরিক্ত দুই বছরের শিক্ষানবিশ সংযুক্ত ডিগ্রি/ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম বা এ্যাপ্রেনটিস এমবেডেড ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম
(সংক্ষেপে এইডিপি) পাঠ্যক্রম প্রচলনের প্রস্তাব রেখেছে। যার ফলে স্নাতকেরা ইণ্ডাস্ট্রিয়াল ফ্লোরে প্রশিক্ষিত হয়ে কাজের সুযোগ পাবে। এখন প্রযুক্তির যুগ। ই- বাইকের মতো কত কিছু বের হচ্ছে। যেখানে দক্ষতা একমাত্র উন্নতির মাপকাঠি। দেশের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে সরকারি, বেসরকারি সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ওয়ান রেগুলেটরি সিস্টেমের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের একটি পোর্টাল থাকবে। সেখানে ছাত্র ছাত্রী ভর্তির সংখ্যা থেকে ফিজ বাবদ আদায়ের টাকা বা সরকার প্রদেয় অর্থ কোথায় যাচ্ছে তা সকলের কাছে প্রকাশ্য থাকবে। সংবাদ মাধ্যম সহজেই জানতে পারবে কোথায় কী দুর্নীতি হচ্ছে। তারফলে মানুষের কাছে সব কিছু পরিষ্কার থাকবে। পাশাপাশি, ভারতীয় সংস্কৃতির ইতিহাসের উপরও এই জাতীয় শিক্ষা নীতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ তাঁর বক্তব্যের মধ্যে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে প্রযুক্তিগত এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে স্বনির্ভর গড়ে তোলার প্রয়াসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মভূমি বিশ্বভারতীর মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।