সুভাষ চন্দ্র দাশ,বাসন্তী - রাজ্য জুড়ে চলা এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের উত্তর মোকামবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নলিয়াখালী গ্রামে এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যুবক।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় দিনমজুর সুরজিৎ মিস্ত্রি (৩০) কয়েকদিন আগেই এসআইআরের হেয়ারিংয়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে নোটিস পাওয়ার পর থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বারবার বুঝিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও আতঙ্ক কাটেনি। বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সুরজিৎ। বিষয়টি নজরে আসতেই পরিবারের লোকজন ঘরের ভিতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসন্তী ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে সেখানেই তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
আর এই ঘটনা প্রসঙ্গে সুরজিতের কাকা নির্মল মিস্ত্রি জানান, “এসআইআরের হেয়ারিং করে আসার পর থেকেই সুরজিৎ ভয় আর আতঙ্কে ভুগছিল। বারবার বলত—আমাদের হয়তো এই দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমরা অনেকবার বুঝিয়ে বলেছি, আমাদের সব প্রমাণপত্র রয়েছে। হআমরা এ দেশের নাগরিক—কোনও সমস্যা হবে না। তবুও আজ দুপুরে সেই আতঙ্ক থেকেই গলায় দড়ি দেয়। এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে আমার ভাইপো। ডাক্তার বাবুরা বলছেন, এখন ঈশ্বরই ভরসা। জানিনা কি হবে!” আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মন্ডল জানিয়েছেন, ‘এসআইআর এর নামে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সাধারণ নাগরিকদের কে যে ভাবে হেনস্থা করছে,তাতে করে সাধারণ নাগরিকরা আতঙ্কিত। আতঙ্ক থেকেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে বার বার। তবে সাধারণ নাগরিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কে সমুদ্রের গভীরে নিক্ষেপ করে বাংলায় শান্তি ফিরিয়ে আনবে।’