পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যমণ্ডিত চটশিল্পের চরম দুর্দশা
কল্যাণ রায়চৌধুরী: বিগত ৩-৪ মাস যাবৎ শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত চট শিল্পের ভয়ঙ্কর দুর্দশা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম এই শিল্পে প্রায় আড়াই লক্ষ শ্রমিক পরিবার এবং ৪০ লক্ষ পাটচাষি পরিবার যুক্ত রয়েছে। প্রাকৃতিক তত্ত্ব পাট হল স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক সম্পদ, যার দ্বারা দেশের খাদ্য সামগ্রী যেমন চাল, গম, ডাল, চিনি, আটা সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেজিংয়ের বস্তা, ব্যাগ, চটের কাপড় ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী তৈরি হয়। এই সমস্ত পাটের বস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া দেশের খাদ্য সামগ্রী মজুত করার জন্য কিনে নেয়। বিদেশেও পাটের বস্তা এবং চট কাপড়ের ভালো বাজার আছে।
বেঙ্গল জুট মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক অমল সেন বলেন, কিন্তু আমাদের দেশের সরকারের সঠিক পাটনীতি না থাকায় এই পাটজাত বস্তার পরিবর্তে অস্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশ দূষণকারী সিন্থেটিক বা প্ল্যাস্টিক বস্তার ঢালাও ছাড়পত্র পাচ্ছে। কর্পোরেট বা একচেটিয়া মালিকরা অধিক লাভের জন্য সিন্থেটিক বস্তার ব্যবসার দিকেই ঝুঁকছে বেশি। সরকার চালিত এন জে এম সি তুলে দেওয়া হয়েছে। মুনাফালোভী ব্যক্তি মালিকরা তাই পাটশিল্পকে লুটের বাজারে পরিণত করে ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই চটকলগুলি গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকেই বন্ধ হতে শুরু করে। ন্যায্য মূল্যে কাঁচা পাট বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ উৎপাদিত কাঁচাপাটের অধিকাংশই কালোবাজারি
মজুতদারদের অধীনে চলে গিয়েছে। ব্ল্যাক মার্কেটিংয়ের ফলে কাঁচা পাটের কৃত্রিম অভাব ও ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে পাটের আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়া। কাঁচা পাটের অভাব দেখিয়ে চটকল মালিকরা ইতিমধ্যেই ২০টি বড় চটকলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষে যে দুটি মিল বন্ধ হয়, তার মধ্যে একটি হল উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির প্রবর্তক জুট মিল এবং অন্যটি হল হুগলির অ্যান্ডাস জুট মিল। প্রথমটিতে শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার এবং দ্বিতীয়টির শ্রমিক সংখ্যা ৪ হাজার। এখন এরা সবাই কর্মহীন। অন্য মিলগুলি চলছে আংশিকভাবে। কোথাও ৫দিন, কোথাও ৪ দিন, কোথাও আবার ৩ দিন। এখন প্রায় সব মিলিয়ে ২ লক্ষ চটকল শ্রমিক গেটের বাইরে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।' এ প্রসঙ্গে বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার ভাইস প্রেসিডেন্ট মানস দে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার জুট মিলগুলি নিয়ে একটু আলাদা চিন্তাভাবনা করছে। ইতিমধ্যে মেটিরিয়ালের দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। মিলশ্রমিক এবং কাঁচামালের যোগানদাররা একে অন্যের পরিপূরক। এ কারণে মিল শ্রমিকরা এখন অনেকটা খুশি। জুট শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য অর্জুন সিং লড়াই করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলে কিছু কিছু কাজ করিয়ে নিয়ে আসছেন।' এ ব্যাপারে সিটু ও তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
admin