সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং - এক অনন্য অসাধারণ প্রতিভা। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া ক্যানিং ২ ব্লকের একটি গ্রামে শিক্ষার আলোর অনন্য প্রতিভা পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে করে অন্ধকার গ্রামে শিক্ষার আলো পেয়ে উন্নততর প্রতিভার সৃষ্টি হয়।ক্যানিং ২ ব্লকের ব্লকের গৌড়দহ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে ২০০২ সালের ৮ নভেম্বর যোগদান করছিলেন পরিতোষ কুমার ঘরামী।
যদিও চাকরী জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালের ১৩ নভেম্বর জীবনতলার কালুয়াখালি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে।ব্লকের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এলাকায় ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার উজ্জ্বল দীপ্ত প্রদীপের শিখা জ্বালানোর কর্মযঞ্জ শুরু করেন।সেই অন্ধকারময় দিনগুলি পিছনে ছুঁড়ে ফেলেদিয়ে গ্রামে শিক্ষার বাতাবরণ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলেন এই শিক্ষক। তিনি সকলের হৃদয়ে স্নেহ ভালোবাসার যে বীজ তিনি বপন করেছিলেন, সেই বীজ এই বিদ্যালয়ের,দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তথা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করবে।
সম্প্রতি প্রতিভাধর শিক্ষক পরিতোষ ঘরামী চাকরী থেকে অবসর নিয়েছেন। ৩১ জানুয়ারী জীবনের অবসর কালীন বিদায় সম্বর্ধনা সভা উপলক্ষে বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো।উপস্থিত ছিলেন গৌড়দহ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল হালদার,বিশিষ্ট ষমাজসেবী শিক্ষক সমীর মন্ডল,শিক্ষিকা সুমনা মন্ডল সরদার,বর্ণালী মন্ডল সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা।এদিন শিক্ষক পরিতোষ কুমার ঘরামী’র অবসরকালীন বিদায় অনুষ্ঠানে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং অনুষ্ঠানে আসা একাধিক মহিলার চোখে নেমে আসে একরাশ অশ্রু।
অবসর কালীন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায় নিয়ে শিক্ষক পরিতোষ কুমার ঘরামী বলেন “ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।আমার হৃদয়ে আমার স্নেহের ছাত্র ছাত্রী সহ তাঁদের অভিভাবকদের সাথে আমার অমূল্য বাঁধন চিরদিনই অটুট থাকবে।”